বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার রসমালাই,
কুমিল্লার মাতৃ ভান্ডারের আদি প্রতিষ্ঠান মনোহরপুরের মাতৃ ভান্ডার। এটি স্থাপিত হয় ১৯৩০ সালে। এর প্রতিষ্ঠাতা ফনিন্দ্র সেন গুপ্ত। তাদের আদি বাসস্থান ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রকৃত রসমালাই বিক্রির এ দোকানগুলোতে নেই কোনো চাকচিক্য। বেশিরভাগ দোকানে বসার ব্যবস্থাও নেই। বাইরের চাকচিক্যের চেয়ে স্বাদ এবং মানই এসব দোকানির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা জানান।
কুমিল্লার রসমালাইয়ের শুরুর কথা:
কুমিল্লা রসমালাইয়ের আদি উদ্ভাবক ত্রিপুরা রাজ্যের ঘোষ সম্প্রদায়। উনিশ শতকের প্রথম দিকে ত্রিপুরা থেকে ঘোষ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে চাহিদা অনুযায়ী এ অঞ্চলের লোকদের বাহারি রকমের মিষ্টি সরবরাহ করতেন। সে সময় রসগোল্লার সঙ্গে মালাইকারির প্রলেপ দেওয়া এক প্রকার মিষ্টির প্রচলনও ছিল। কেউ কেউ একে মালাই রসগোল্লা বলতেন।
পরবর্তী সময়ে দুধ জ্বাল দিয়ে ক্ষীর বানিয়ে তার মধ্যে শুকনা রসগোল্লা ডুবিয়ে তৈরি করা হয় ক্ষীরসহ রসগোল্লা। এর নাম দেয়া হয় ‘ক্ষীরভোগ।’ গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে এই রসগোল্লার আকার ছোট করে দুধের ক্ষীরের মধ্যে ডুবিয়ে পরিবেশন শুরু হয় এবং একপর্যায়ে এর নামকরণ হয় রসমালাই।
তবে অনেকের মতে, পূর্ব পাকিস্তান হওয়ার পর অবাঙালিরা কুমিল্লায় এসে ক্ষীরভোগকে রসমালাই বলতে শুরু করেন। প্রথম দিকে মাটির হাঁড়িতে করে বিক্রি হতো রসমালাই। পরে পলিথিনের ঠোঙা ও এরপর আসে প্লাস্টিকের কৌটায় করে বিক্রির প্রথা।
কোথায় মেলে প্রকৃত স্বাদের রসমালাই:
বর্তমানে প্রকৃত স্বাদের রসমালাই পাওয়া যায় হাতে গোণা কয়েকটি মিষ্টির দোকানে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় মনোহরপুরে অবস্থিত মাতৃভান্ডার, ভগবতী পেড়া ভান্ডার, শীতল ভান্ডার, জলযোগ, জেনিস, পোড়াবাড়ি, পুলিশ লাইনের পিয়াসা, ঝাউতলার অমৃত সুইটস ও পিয়াসার মিষ্টি দোকান।
তবে উৎকৃষ্ট ও সুস্বাদু রসমালাই পেতে হলে আসতে হবে মনোহরপুরে অবস্থিত মাতৃভান্ডার, ভগবতী ও শীতল ভান্ডারের দোকানে।
রসমালাইয়ের দাম:
বর্তমানে কুমিল্লার মাতৃ ভান্ডারে ১ কেজি রসমালাইয়ের দাম ২৪০ টাকা আর ১ প্লেটের দাম ৪০ টাকা। অন্যান্য দোকানেও প্রায় একই দাম।


