Caption: Inside of Lalan Museum. Photo taken by Local Guides Abdus Sattar.
হ্যালো লোকাল গাইডস,
আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই, বাংলাদেশের বিখ্যাত বাউল শিল্পী “বাউল সম্রাট” নামে খ্যাত ফকির লালন শাহ এর জীবদ্দশায় তার ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রের সংগ্রহশালা “লালন মিউজিয়াম” এর কিছু ছবি।
ফকির লালন শাহ এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতঃ
ফকির লালন অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের মানবতাবাদী সাধক, তিনি সকল ধর্ম বর্ণ, গোত্র ও জাতিগত বিভেদ ভুলে অসংখ্য গান রচনা করেছিলেন। তার রচিত গানসমূহ বেশ জনপ্রিয় ছিল এবং এখনো আছে। তিনি লালন শাহ, লালন সাঁই, ফকির লালন, মহাত্মা লালন সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি আধ্যাত্মিক সাধক, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক হিসেবেও পরিচিতি ছিল।
[ফকির লালন শাহ সম্পর্কে বিস্তারিত পরবর্তী পোস্টে লিখার চেষ্টা করব।]
Caption: The shrine of Lalon Shah and adjacent to this shrine is the “Lalon Museum” housed in the Lalon Academy building. Photo taken by Local Guides Abdus Sattar.
লালন মিউজিয়াম এর অবস্থানঃ
কুষ্টিয়ায়, কুমারখালীতে অবস্থিত লালনের আখড়া ছেঁউড়িয়া রয়েছে শাহের মাজার । লালন শাহ এর মাজারের পাশেই, ২০০৭ সালের ১৩ই মে লালন একাডেমির নবনির্মিত ভবনের নিচ তলায় “লালন মিউজিয়াম” উদ্বোধন ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
Caption: I am in front of Lalon Shah’s portrait in the museum.
বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের জেলা কুষ্টিয়া ও এর আশেপাশের লোকাল গাইডসদের নিয়ে “বাংলাদেশ লোকাল গাইডস” এর ব্যানারে একটি ফটোওয়াক মিটআপ আয়োজন ও অংশগ্রহণের সুবাদে, ২০২০ সালে ৩০শ অক্টোবর লালন মিউজিয়াম পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। ঐ মিটআপ টি হোস্ট করেছিলাম আমি ( @AbdusSattar ) নিজেই। হাতে সময় থাকলে ওই মিটআপের Recap Post দেখে আসতে পারেন।
বাঙালি এবং বাংলা ভাষাভাষীর সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গীতপ্রেমী মানুষদের কাছে ফকির লালন শাহ একজন অনন্য কবি ও সাধক। তার রচিত গান পছন্দ করে না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। লালন মিউজিয়াম থেকে তোলা বিখ্যাত এই বাউল শিল্পীর ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিসপত্রের কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি দেখে ভালো লাগবে।
Caption: Various items used by Lalon Shah kept in the museum. Photo taken by Local Guides Abdus Sattar.
লালন মিউজিয়ামঃ স্বল্প পরিসরে এক কক্ষ বিশিষ্ট একটি ছোট সংগ্রহশালা।
টিকিটঃ মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে আপনাকে অবশ্যই টিকিট ক্রয় করতে হবে।
টিকিট মূল্যঃ ১০ টাকা (0.092 $)
সময়ঃ প্রতিদিন সকাল 10:00 AM থেকে 10:00 PM পর্যন্ত খোলা থাকে।
কিভাবে যাবেনঃ
বাসেঃ
১. ঢাকা কল্যাণপুর, গাবতলী হতে যমুনা সেতু হয়ে কুষ্টিয়া মজমপুর।
২. ঢাকা যাত্রাবাড়ী হতে পদ্মা ব্রিজ হয়ে কুষ্টিয়া মজমপুর।
৩. ঢাকা গাবতলী হতে পাটুরিয়া-দৌলদিয়া, রাজবাড়ী হয়ে কুষ্টিয়া মজমপু।
8. বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বাসে কুষ্টিয়া মজমপুর।
ট্রেনেঃ
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে Poradah Railway Junction (পড়াদহ স্টেশন) হয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো ট্রেনে পড়াদহ নেমে সিএনজি অথবা অটো নিয়ে কুষ্টিয়া মজমপুর।
অথবা পোড়াদহ স্টেশন থেকে কুষ্টিয়া রাজবাড়ী ফরিদপুর গামী সার্টেল ট্রেনে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন হতে রিকশা অথবা অটো রিকশা নিয়ে লালন শাহর মাজার যেতে পারবেন।
মজমপুর থেকে রিকশা অথবা অটো রিকশা নিয়ে লালন শাহর মাজার বললে নিয়ে যাবে এক্ষেত্রে রিকশা বা অটো রিকশা ভাড়া ৭০-৮০ টাকা (কম-বেশি) হবে।
উল্লেখ্যঃ ঢাকা থেকে আপনি চাইলে একদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন লালন মিউজিয়াম এবং লালনের মাজার হতে। তবে একটু বেশি সময় নিয়ে গেলে ছেউড়িয়া থেকে কাছাকাছি দূরত্বে কুষ্টিয়ার আরো কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখে আসতে পারেন। যেমন, সাহিত্যিক মীর মশারফ হোসেনের বসত ভিটা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি , কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর
কোথায় থাকবেনঃ কুষ্টিয়া শহরে এন এস রোড ও মজমপুর গেইট এলাকায় বেশ কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল আছে।
আমার এই ট্রাভেল স্টরি নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করব আজকে এ পর্যন্তই। শেষ পর্যন্ত আমার পোস্ট পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
Information Source: Some Information is collected from online sources.









