Char kukri mukri island

Captionঃ ড্রোন থেকে নেয়া আমাদের ক্যাম্পসাইট। ছবি ফাহিম।

আমাদের এবারের ট্যুর ছিলো বরিশালের ভোলা জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে একদম সাগরের কোল ঘেষে মেঘনা ও তেতুঁলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা অনিন্দ্য সুন্দর এক চর। এই চর কুকরি মুকরিতেই রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষে মেঘনা নদীর মোহনায় এর অবস্থান। চারিদিকে জলরাশি দ্বারা বেষ্টিত প্রমত্তা মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ে পলি জমতে জমতে এ দ্বীপটির জন্ম।

Captionঃ ক্যাম্পসাইটে ভোরের একটি ছবি।

এখানের ভোর হয় পাখির শব্দে যেখানে সুর্য্য উদিত হয় আপনাকে নতুন দিনের গল্প শোনাতে। এই সমুদ্র সৈকতটি বেশ পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি। দেশের অন্যান্য পর্যটক কেন্দ্র গুলোর তুলনায় চর কুকরি মুকরি কিছুটা ভিন্ন ধরনের। যেন মাইলের পর মাইল বৃক্ষ রাজির বিশাল ক্যানভাস স্বপ্নের দ্বীপ কুকরি মুকরিকে সাজিয়েছে প্রকৃতি তার নিজ হাতে। যেখানে জীবিত গাছের সংখ্যা প্রায় ৯ কোটিরও বেশি। চর কুকরি মুকরি এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। খালটির নাম ভাড়ানি খাল। মেঘনার বিশাল বুক থেকে বয়ে গিয়ে খালটি পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। এখানকার ধু-ধু বালির ওপর দাঁড়ালে সাগরের শোঁ শোঁ শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাবে না। একটু সামনে এগোলেই ঢাল চর। এর পরই বঙ্গোপসাগর। এখানে উত্তাল ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখলেই মনে পড়ে যাবে কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কথা। স্থানীয় মানুষ এটিকে বালুর ধুম নামে ও ডাকে। তবে কুকরি মুকরি এর প্রধান আকর্ষণ সাগরপাড়। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত কিংবা সূর্য ডোবার দৃশ্য নিসন্দেহে ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করবে। আপনি চাইলে পাশের ঢালচরও ঘুরে আসতে পারেন যেখানে আছে তারুয়া সমুদ্র সৈকত।

Captionঃ ধু ধু বালির বুকে একাকি বৃক্ষ।

এখানের প্রকৃতি যেমন শান্ত এখানের মানুষগুলিও খুব সহজ সরল এরা মুহুর্তেই আপনাকে আপন করে নিবে।

Captionঃ কুকরি মুকরি চরের লুকায়িত সৌন্দ্যর্য

Captionঃ তাড়ুয়া সৈকত একদম কোলাহল মুক্ত এক সমুদ্র বীচ।

স্থানীয় দের কাছ থেকে শুনেছি চর কুকরি মুকরির বনে অনেক অনেক প্রাণী দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে চিত্রা হরিণ, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল, বন্য মহিষ-গরু, বন-বিড়াল, বন মোরগ, প্রভৃতি। আর পাখিও সরিসৃপ হিসেবে এই বনের অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বক, বন মোরগ, শঙ্খচিল, মথুরা, কাঠময়ূর, কোয়েল, গুইসাঁপ, বেজি, কচ্ছপ, কুকুরি বনের ও নানা ধরনের সাপ। তবে আমরা তার খুব সামান্যই দেখেছি।

Captionঃ সুর্য উদয়ের সময় একটি ভিন্নধর্মি ছবি। তুলেছেন তুষার।

Captionঃ সুর্যাস্ত

Captionঃ আমাদের ক্যাম্পসাইটেই ছিল দোলনা তাই দুলতে দুলতে ছবি তুলেছেন লোকাল গাইড জনি।

কি খাবেন কোথায় থাকবেন?

আপনি চাইলে কুকরি মুকরি গেস্ট হাউজে থাকতে পারবেন খাবার দাবার উনারাই ব্যাবস্থা করবেন। যদিও আমরা স্থানীয় এক সেবাদানকারী র কাছ থেকে আমাদের ক্যাম্পিং এবং খাবারের ব্যাবস্থা উনিই করেছেন।

Captionঃ ভাড়ানি খাল মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গপোসাগড়ে বয়ে গেছে।

Captionঃ এ যেন প্রকৃতি সবুজ গালিচায় আমাদের সংবর্ধনা দিচ্ছে।

Captionঃ ভোর এ যেন তাবু বেদ করে সুর্য উদিত হচ্ছে।

Captionঃ স্থানীয় দের দ্বারা পরিচালিত দ্বীপে একটি ছোট্র একটি চায়ের দোকান।

কিভাবে যাবেন তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :arrow_lower_left:

ঢাকার সদরঘাট থেকে ভোলার বেতুয়া গামী লঞ্চে উঠে পরুন। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮ টা পর্যন্ত ভালো মানের কয়েকটা লঞ্চ ছাড়ে। ডেকের ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা, সিংগেল কেবিন ১০০০, ডাবল কেবিন ১৮০০ টাকা। রাতে লঞ্চেই খেতে পারেন। খাবার মোটামুটি ভালোই আছে। অবশ্যই খাবার অর্ডার করার সময় দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বেতুয়া পৌছাবেন আনুমানিক ভোর ৫/৬ টায়। সম্ভব হলে লঞ্চ থেকে ৬ টায়, মানে আলো ফুটার পর বের হন। বেতুয়া ঘাট থেকে অটো নিয়ে চলে যান চর ফ্যাশন বাস টার্মিনালে, অটো ভাড়া জনপ্রতি ৩০/৪০ টাকা, সময় লাগবে ২০/২৫ মিনিট। চর ফ্যাশন থেকে আপনি চর কচ্ছপিয়া যাওয়ার জন্য বাসে উঠে পরুন। সময় লাগবে ১ ঘন্টা থেকে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত আর ভাড়া গুনতে হবে ৫০ টাকার মত।

চর কচ্ছপিয়া থেকে দক্ষিন আইচা ঘাট যাওয়ার জন্য আবার অটো নেওয়া লাগবে। ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ১৫/২০ টাকা। চর কচ্ছপিয়া থেকে কুকরি মুকরি যাওয়ার ট্রলার পাবেন৷। ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৪০ টাকা আর সময় লাগবে আনুমানি ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত। চর কুকরি মুকরি ট্রলার ঘাট থেকে চর মুন্তাজ, আর চর মুন্তাজ থেকে চর কচ্ছপিয়া ঘাট রিজার্ভ ট্রলার (১৫/১৬ জনের) ২৫০০/৩৫০০ টাকার মত । দামাদামী করা লাগবে কিছু ক্ষেত্রে ছুটির দিনগুলোতে ভাড়া এদিক সেদিক হয়। সুত্র-- আদার ব্যাপারি

#BDLG #BangladeshLocalguide #Localguideconnect #Travel #Letsguide

87 Likes

এখানকার নাম অনেক শুনছি কিন্তু এখানকার কোন ছবি দেখতে পারিনি।

এখানে দেখে তো অনেক সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ মনে হচ্ছে।

আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ @MohammadPalash ভাই।

5 Likes

জ্বি ভাই খুব দারুন কিছু সময় কেটেছে @KhanSayfullah

5 Likes

প্রিয়** @TravellerG ** @waza28 আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণামুলক মন্তব্য এর অপেক্ষায়।

4 Likes

এরপর কোথাও গেলে আমাদের নিয়ে যায়েন @MohammadPalash

ভাই।

5 Likes

আস সালামুওয়ালাইকুম ভাই @mdjhfc আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ আপনি বরং আমাকে নিয়ে যাবেন।

5 Likes

Sundor post brother @MohammadPalash

in sha allah apnar sAthe akta tour dewar icca ase ….

5 Likes

ইন শা আল্লাহ ভাইজান @Papel_Mahammud

5 Likes

@MohammadPalash সুন্দর একটি ভ্রমণ বিবরণী উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ

3 Likes

সুন্দর মন্তব্য র জন শোকরিয়া ভাই @Anonymous_b94cf02d9eeadbc2e4ca1e27a5054b05

2 Likes

পোস্টটা পড়ে ও ছবিগুলো দেখে একবারও মনে হয়নি যে, আমি এখান থেকে দূরে আছি। বরং আমার মনে হয়েছে আমি যেন ট্যুরে আছি। ধন্যবাদ এত সুন্দর উপস্থাপনার জন্য @MohammadPalash ভাইয়া।

1 Like

আহ ভাই কই ছিলেন? চায়ের দাওয়াত রইলো @NaptiRasedul

1 Like

@MohammadPalash Thank you for sharing your post about the Char Kukri Mukri Island! Your detailed description of the island, its unique features, and the stunning photos you included gave me a wonderful sense of what it would be like to visit there. Your post is a valuable resource for anyone interested in exploring this fascinating part of the world. Keep up the great work!

1 Like

thank you brother @NahidHossain