পুরনো ঢাকা বেড়াতে এলে কি দেখবেন আর খাবেন #bdlg200 #200meetup

পুরনো ঢাকা হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য খাদ্যাভ্যাস আর ব্যবসা কেন্দ্র ঘিরে এই শহর যদিও কাগজের কলমে কোথাও পুরনো ঢাকা লেখা নেই তবে ঢাকার দক্ষিণ অংশকে পুরনো ঢাকা হিসেবেই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।

আমার এই কানেক্ট পোস্টে তুলে ধরব পুরনো ঢাকার কি কি দেখার আছে আর ভোজন রসিকদের জন্য কি রয়েছে।

রাজা জমিদার নবাব ব্রিটিশ কলোনিয়াল শাসন আর অন্যান্য ইতিহাসে ভরপুর এই পুরনা ঢাকা আমি বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান তুলে ধরার চেষ্টা করব

লালাবাগ কেল্লার দক্ষিণের ভবন থেকে পরীবিবির মাজার কে কেন্ড করে তোলা ছবি

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা মূলত মুঘল আমলে তৈরি একটি মোগল অসমাপ্ত দুর্গ, মোগল রাজপুত্র আজম শাহ বাংলার সুবেদার থাকাকালীন সময় ১৬৭৮এ এর নির্মাণ কাজ

শুরু করেন তিনি প্রায় ১৫ মাস এই বাংলায় অবস্থান করেছেন বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়।

মারাঠা বিদ্রোহের সময় আজম শাহ দিল্লি ফেরত গেলে সেখানে সুবেদার নিয়োগ প্রাপ্ত হন শায়েস্তা খাঁ , সুবেদার খাঁ তিনি 1680 তে পুনরায় এই কাজ শুরু করেন তবে1684 সালে তার কন্যা পরী বিবির মৃত্যু ঘটে এবং সেখানে একটি সমাধিস্থল নির্মাণ করেন এবং কেল্লাটি অসমাপ্ত থেকে যায়। 1844 সালে এই এলাকার নাম আরঙ্গবাদ থেকে পরিবর্তন করে লালবাগ রাখা হয় যার ফলে বর্তমানে এই দুর্গ টিকে লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিত।

উচ্চ প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এই দুর্গের ভেতরে রয়েছে পরী বিবির সমাধিস্থল একটি মসজিদ পুকুর ও অসমাপ্ত কেল্লা ভবন ও সুড়ঙ্গ পথ। একটি মোগল হাম্মামখানা রয়েছে যেটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রবেশ মূল্য / টিকিট মূল্য : জনসাধারণের জন্য এর প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা এবং সার্কভুক্ত দেশের পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা বিদেশীদের জন্য ২০০ টাকা টিকিট মূল্য ধার্য করা হয়েছে , এর সাপ্তাহিক বন্ধ রবিবার।

ম্যাপ লোকেশন : লালবাগ কেল্লা

আহসান মঞ্জিল

ব্রিটিশ এবং সমসাময়িক কালে রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই আহসান মঞ্জিল। ১৮৭২ সালে নবাব আব্দুল গনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহর নাম অনুসারে তৈরি করেন আহসান মঞ্জিল।
আধুনিক ঢাকা গঠনে তাদের রয়েছে অসংখ্য অবদান যেমন বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা ঢাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা সহ রাজনৈতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে এই ভবনটি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে এটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এতে রয়েছে ২৩ টির মতো গ্যালারি

সর্বসাধারণের জন্য প্রবেশ মূল্য 40 টাকা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

1952 সালের 21 শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধ আমার মনে হয় প্রতিটি বাংলাদেশী একবার হলেও দেখতে যাওয়া প্রয়োজন।
স্থানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত

মুঘল এবং অন্যান্য রাজার অধীনে থাকার কারণে এই পুনরো ঢাকায় কিছুটা কাবাব এবং বিরিয়ানির প্রাধান্য দেখা যায় সেখান থেকে কিছু খাবার আমি তুলে ধরব

খাসির কাচ্চির প্লেট এর ক্লোজ শর্ট একটি ছবি

কাচ্চি /বিরিয়ানি

বিরিয়ানি খাবারটা মূলত মোগল আমল থেকে এদেশে চলমান রয়েছে যেটা একসময় রাজ পরিবারের খাবার ছিল এখন সেটা কালের পরিবর্তনে জনসাধারণ এর প্লেটে চলে এসেছে।
পুরনো ঢাকায় বিরিয়ানি কয়েক রকমের পাওয়া যায় এর মধ্যে কাচ্চি বিরিয়ানি বেশ প্রসিদ্ধ এবং খাওয়ার জন্য পুরনো ঢাকার নাজিরা বাজার এ বেশ কয়েকটি বিখ্যাত বিরিয়ানির দোকান রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট করে কোন দোকানের নাম বলবো না কারণ রুচি এবং পছন্দ বেঁধে এক একজনের পছন্দ একরকম।

পুরনো ঢাকার একটি কাবাবের দোকান

কাবাব

এসরে মানুষ প্রচুর ভজন প্রীতি তাই এই তালিকায় রয়েছে কাবাব বিশেষ করে শিক কাবাব জালি কাবাব শামি কাবাব গুরদা কাবাব সহ আরো অনেক ধরনের কাবাব রয়েছে।
খাওয়ার জন্য বিখ্যাত জায়গাগুলোর মাঝে নাজিরাবাজার, বাংলাবাজারের কোনায় ক্যাফে কর্নার, নারিন্দা পুলিশ ফাঁড়ি মোড় ও মোহাম্মদপুরের বেশ কয়েকটি স্থান রয়েছে।

সদ্য বানান চিনি যুক্ত বাকরখানি

বাখরখানি

বাকরখানি মূলত দুইটি নামের সমন্বয় তৈরি এটি আগা বাকর এবং তার প্রেমিকা খানি বেগমের নামের সমন্বয় তৈরি মূলত একটি শুষ্ক বিস্কুট। পুরনো ঢাকায় যারা থাকে তাদেরকে ঢাকাইয়া বলা হয় তাদের একটি দৈনন্দিন খাবার বলা চলে তবে এই খাওয়ায় একটি আর্ট রয়েছে।
শুকনো ঠিকমতো খেতে না পারলে গলায় আটকে যায় তবে দুধ চায়ের সাথে এর সমন্বয় অসাধারণ।
কয়েক প্রকার রয়েছে সাধারণ বাকের খানি এবং চিনি দেয়া বাহক খানি সব সময় পাওয়া গেল কুরবানী ঈদের পরে অনেকেই জুরা গরুর গোশত এবং চর্বি দিয়ে বিশেষভাবে বাখরখানি তৈরি করে নেয়।

নেহারি ও নান রুটি

নেহারি কিংবা পায়া সাথে নান রুটি এটা হচ্ছে এই শহরের স্থানীয়দের সকলের একটি মুখরোচক জনপ্রিয় খাবার, এই খাবারটি খেতে হলে আপনাকে অবশ্যই খুব ভোরে উঠে যেতে হবে কারণ জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট গুলোতে খুব সকালেই শেষ হয়ে যায়।

ফালুদা

ফালুদা ভারতীয় উপমহাদেশে বেশ জনপ্রিয় একটি ঠান্ডা মিষ্টি জাতীয় খাবার তবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ফালুদার বেশ পার্থক্য রয়েছে।
দুধের মালাই, ফর এবং সাবুদানার সমন্বয় এই শহরে কিছু অসাধারণ ফালুদা তৈরি করা হয় এর মাঝে আল রাজ্জাক এবং স্টার এর ফালুদা এখন পর্যন্ত কিছুটা কোয়ালিটি ধরে রাখতে পেরেছে বলে আমার কাছে মনে হল।


বিউটির লাচ্ছি

সাধারণ ঠান্ডা পানীয় তৈরির জন্য ইহা বেশ বিখ্যাত বর্তমানে বেশ কয়েকটি শাখা তারা বিভিন্ন স্থানে খুলেছে। লাচ্ছি শরবত এবং লেবুর শরবতের জন্য এরা বেশ বিখ্যাত। শীতকালীন সময়ে সর্বদা চাহিদা কম থাকায় তারা একটি ভেজিটেবল পুড়ি নামে খাবার তৈরি করে যেটি প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং সন্ধ্যার পরপর শেষ হয়ে যায়।

মিষ্টি জাতীয় খাবার

এই শহরের মানুষ যেহেতু ভোজন প্রীতি কাবাব কিংবা বিরিয়ানি জায়গা এর সাথে তাদের মিষ্টি জাতীয় খাবার চাই এ জন্য রয়েছে বেশ কিছু পুরনো অনুষ্ঠির দোকান মরণ চাঁদ কিংবা আলাউদ্দিন সুইটস এছাড়া আরো অনেক মিষ্টি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নতুন করে তৈরি হয়েছে নানা নামে বাড়ি রংয়ের এবং স্বাদের।

100 Likes

ধন্যবাদ ভাই, সুন্দর সুন্দর খাবার এর জায়গার পরিচিতি তুলে ধরার জন্যে। এগুলো খাওয়ার জন্য আপনার সাথে একদিন ঘুরতে হবে।

7 Likes

আমার অনেক বড় একটা ব্যর্থতা যে আমি এখনো লালবাগ কেল্লায় যায়নি। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে ঢাকায় গেলে অবশ্যই এই দর্শনীয় স্থানটি ঘুরে আসবো। ধন্যবাদ @MahabubMunna ভাই।

8 Likes

@MahabubMunna দাওয়াত পেলে ইনশাআল্লাহ ঘুরতে যাবো

7 Likes

@MahabubMunna ভাই একটা জিনিস খেয়াল করেছেন, গুগল টাকাকে ইংরেজি অনুবাদে Rupee লেখে। এটাকে কিন্তু ঠিক করা দরকার।

7 Likes

চমৎকার বর্ণনা :heart: রাজ্জাকে এখনো খাওয়া হয় নাই :disappointed:

7 Likes

সবগুলো স্থানে গিয়েছি ও সকল খাবার খেয়েছি :heart:

5 Likes

ঢাকায় কখনো বেড়ানোর জন্য যাওয়া হয়নি, তবে যত বার ঢাকা গেছি কাজের জন্য যাওয়া হয়েছে আর কাজ শেষে ফেরৎ এসেছি। তবে অনেক আগে থেকেই পূরান ঢাকা যাওয়ার আমর ইচ্ছা আছে আর এই লেখা পড়ে সেই ইচ্ছা আরও প্রবল হলো । ধন্যবাদ ভাই ইনশাআল্লাহ দেখা হবে কোন এক সময়…

6 Likes

আহা, পুরান ঢাকার খাবার এর স্বাধ,মুখে লেগে আছে। বিশেষ করে ফালুদা ও কাবাব।

ধন্যবাদ @MahabubMunna সুন্দর একটি পোষ্ট এর জন্য।

4 Likes

পুরনো ঢাকার ঐতিহ্য আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য মাহবুব ভাই কে ধন্যবাদ, আমি এখন পর্যন্ত আহসান মুঞ্জিল দেখিনি কর্মজীবনে অনেক ব্যস্ততার কারণে সেরকম ঘোরাঘুরি হয় না তবে সময় হলে এসব জায়গা পরিদর্শনের জন্য আপনার নিকট আসবো এবং আমাদের একান্ত সহযোগিতা করবেন বলে আমি আশাবাদী।

ধন্যবাদ

আসলাম হোসেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী

বাংলাদেশ।

3 Likes

আফসোসে আমার নিজের জন্য প্রায় ১০/১৫ দিন পর পর আহসান মঞ্জিল এর সামনে দিয়ে গেলেও এখনো ভিতরে যাওয়া হয়ে উঠেনি। আর রাজ্জাকে ও খাওয়া হয়নি। তবে চকবাজারে আমানিয়ার কালাভুনা বা হাসভুনা এবং দুধ চা দারুন স্বাদের @MahabubMunna ভাই@

1 Like

@MohammadPalash আমি ও অনেক দিন আহসান মঞ্জিল এর ভেতরে জাই না আসে পাশে দিয়েই এদিক সেদিক জাওয়া হয়

1 Like

লালবাগ কেল্লা দেখার খুব ইচ্ছা, সময় সুযোগ হয়ে উঠেনা। অাপনাকে ধন্যবাদ অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য।

1 Like

পুরান ঢাকার খাবার আমার খুব প্রিয়। মাঝে মধ্যে সময় পেলে কিংবা ওইদিকে গেলে খেয়ে আসি। পুরান ঢাকা আমাদের দেশের একটা কালচারাল শহর। জ্যাম জট বাদে খাবার, মানুষের কালচার আমার খুব ভালো লাগে।

1 Like

খুবই সুন্দর লিখেছেন ভাই।

ভেবেছিলাম এই থিমে/ পুরান ঢাকার খাবার নিয়ে আমিও লিখবো, যেহেতু পুরান ঢাকায় থাকি। তবে আপনার লিখাটা সুন্দর হয়েছে অনেক @MahabubMunna

1 Like

চমৎকার লেখা ভাই।

1 Like

Interesting post,dear friend @MahabubMunna ,

Photos are really impressive and the narration is nice.

Your video - the drone shot is also amazing.

Congratulations.

Thanks for sharing.

1 Like

@MahabubMunna নতুন অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ

1 Like

খুবই ভাল লাগল। পুরান ঢাকা আমাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

খাবারগুলো দেখে খেতে ইচ্ছে করতেছে। প্রায় সময় পুরান ঢাকার গল্প শুনি, কিন্তু কখনো যাওয়া হয়নি।

ইচ্ছে আছে একদিন সবগুলো স্থানে ঘুরবো ও সবগুলো খাবারের টেস্ট নেব।